গাজা সিটি, ১৭ এপ্রিল ২০২৫:
গাজার উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আবারও প্রাণ হারালেন এক ফিলিস্তিনি সাংবাদিকসহ একই পরিবারের ১০ সদস্য। বুধবার (১৬ এপ্রিল) গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা নিউজ এজেন্সি নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে একজন সাংবাদিক রয়েছেন, যিনি হামলার সময় পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিজ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় এটি সাংবাদিক হত্যার একটি নতুন মাইলফলক। সর্বশেষ এই ঘটনার পর, চলমান ইসরায়েলি অভিযানে নিহত ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের সংখ্যা ২৩০ ছাড়িয়ে গেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, এটি ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ গণমাধ্যমকর্মী গণহত্যার উদাহরণ, যেখানে যুদ্ধের তথ্যচিত্র নির্মাতা থেকে শুরু করে সংবাদপত্রের মাঠ-রিপোর্টার পর্যন্ত কেউই রক্ষা পাচ্ছেন না।
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) টানা বিমান হামলায় আরও অন্তত ৩৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে অনেক স্থানেই মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
গাজার বেশিরভাগ আবাসিক এলাকা ইতোমধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ফলে হাজার হাজার মানুষ বাধ্য হয়ে বিভিন্ন অস্থায়ী শিবির ও শরণার্থী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু এসব তাঁবু পর্যন্ত এখন আর নিরাপদ নয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ইসরায়েলি বিমান থেকে লক্ষ্য করে বোমা ফেলা হচ্ছে শরণার্থী শিবিরে। এমন হামলার শিকার হয়েছেন বহু শিশু ও বয়স্ক নাগরিক, যাদের কোনো যুদ্ধসক্ষমতা নেই।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ভোররাতে খান ইউনিস, দেইর আল বালাহ ও জাবালিয়া এলাকায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে আরও ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এসব হামলার বেশিরভাগই ছিল আবাসিক ভবন ও শরণার্থী ক্যাম্পকে লক্ষ্য করে।
গাজায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরায়েলি তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ৫১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। যাদের মধ্যে অনেকেই নারী, শিশু এবং বয়স্ক মানুষ। ধ্বংস হয়েছে স্কুল, হাসপাতাল, সংবাদমাধ্যম অফিস, আশ্রয়কেন্দ্রসহ প্রায় সব ধরনের বেসামরিক অবকাঠামো।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে ‘গণহত্যার সঙ্গে তুলনীয়’ বলে অভিহিত করলেও, আন্তর্জাতিক মহলের নিরবতা এবং কার্যকর পদক্ষেপের অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হলেও, ইসরায়েলের আগ্রাসন থেমে নেই।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |